যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার খরচ চালাতে শিক্ষাঋণ নিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। আগামী বছরের শুরুতে বর্তমানে চাকরি করছেন এমন ঋণগ্রহীতাদের বেতন জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় এক হাজার ঋণগ্রহীতাকে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো হবে। পরবর্তী মাসগুলোয় ধাপে ধাপে নোটিস পাঠানোর পরিসর বাড়ানো হবে। খবর এপি।
যুক্তরাষ্ট্রে যেসব ঋণগ্রহীতা টানা ২৭০ দিন বা প্রায় নয় মাস শিক্ষাঋণের কিস্তি পরিশোধ করেননি, তাদের খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়। আইনি বিধান অনুযায়ী, এমন অবস্থায় সরকার ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে বর্তমানে চাকরিরতদের বেতন জব্দের আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ঋণগ্রহীতাদের কমপক্ষে ৩০ দিনের নোটিস দিতে হয়। এ সময়ের মধ্যে ঋণগ্রহীতারা বকেয়া পরিশোধ করতে পারেন অথবা বিকল্প পরিশোধ ব্যবস্থায় যেতে পারেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না নিলে বেতন জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ঋণ আদায়ের কার্যক্রম শুরুর আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ঋণগ্রহীতাদের পর্যাপ্ত নোটিস দেয়া হবে এবং ঋণ পরিশোধের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আদায় কার্যক্রম চালানো হবে।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন স্টুডেন্ট বরোয়ার প্রটেকশন সেন্টারের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক পারসিস ইউ। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মীর বেতন বাড়ছে না এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। এমন সময় খেলাপি শিক্ষাঋণ গ্রহীতাদের বেতন জব্দের সিদ্ধান্ত নির্মম, অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বহীন। ঋণগ্রহীতাদের জন্য সাশ্রয়ী পরিশোধের বিকল্প সহজলভ্য করতে প্রশাসন পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
উল্লেখ্য, কভিড-১৯ মহামারীর সময় যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত ছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পুনরায় কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়। তবে তৎকালীন প্রশাসন এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেয়। ২০২০ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত খেলাপি শিক্ষাঋণ আদায়ে ফেডারেল সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছর সে ছাড় প্রত্যাহার করে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নেয়, যার অংশ হিসেবে বেতন জব্দের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।